রক্তশূন্যতা দূর করার উপায়

রক্তস্বল্পতা দূর করার উপায় । 


যাদের রক্তস্বল্পতা বা রক্ত ঘাটতি রয়েছে অথবা যারা এনিমিয়ায় দীর্ঘদিন থেকে ভুগছেন তারা আজকের লিখাটা সম্পূর্ণ পড়ুন। 


অনেকেই আমরা আছি যে রক্ত ঘাটতি হলে বুঝি না যে আমাদের রক্তস্বল্পতা দেহে তৈরি হচ্ছে, হিমোগ্লোবিনের অভাব হচ্ছে। হিমোগ্লোবিন কমে গেলে কখনোই আপনার দেহে রক্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হবে না।



রক্তস্বল্পতার লক্ষণ


পুরুষের তুলনায় নারীদের সব সময় রক্ত ঘাটতির পরিমাণ বেশি থাকে। রক্ত ঘাটতি হলে চোখ মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যাবে এবং দেহের রঙ ধীরে ধীরে ফর্সা মত হতে থাকে। এটা প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা হওয়া নয় এটা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া। যেটাকে আয়ুর্বেদের ভাষায় পাণ্ডু রোগ বলা হয়। পান্ডু অর্থাৎ ফ্যাকাসে বা হালকা হলদে ভাব হয়ে যাওয়া। এছাড়া প্রচন্ড পরিমাণে দুর্বলতা ক্লান্তি, অবসা্‌ মাথা ঘোরা, সবসময় মাথা ব্যথা অনুভূত হওয়া চোখে ঝাপসা দেখা, ঠোঁটে বা মুখে দুই ধারে ঘা হওয়া ইত্যাদি ।রক্তশূন্যতার লক্ষণ। এছাড়াও যখন তখন শ্বাসকষ্ট অনুভূত হওয়া, আপনার ঠান্ডার সমস্যা নেই তবু আপনি সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে আপনার ঠান্ডার সমস্যা হয় এমনকি হঠাৎ করে আপনার হার্ট ফেইলর হতে পারে রক্ত ঘাটতির কারণে। রক্তস্বল্পতা দূর করতে চান তাহলে অবশ্যই আজকের লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ুন। 




আজকে শুধুমাত্র তিনটি শাকের কথা বলব যে তিনটি শাককে আপনি নিয়মিত খেলেই আপনার রক্ত ঘাটতি দূর হবে। এমন নয় যে প্রতিটি শাকই আপনাকে খেতে হবে আপনার হাতের কাছে যেটা পাবেন সেটাই আপনি সঠিক নিয়মে সেবন করুন। 


রক্তশূন্যতা দূর করার উপায়,রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়,রক্তশূন্যতা দূর করার সহজ উপায়,রক্তশূন্যতা দূর করার উপায়,ওষুধ ছাড়াই রক্তশূন্যতা দূর করবে ৫টি খাবার,রক্তশূন্যতা,রক্তশূন্যতা কেন হয়,রক্তস্বল্পতা দূর করার উপায়,আয়রন রক্তশূন্যতা,রক্তাল্পতা দূর করার উপায়,রক্তশূন্যতার লক্ষণ,রক্তশূন্যতার চিকিৎসা,রক্তশূন্যতা হলে করণীয়,রক্তশূন্যতা হলে কি খেতে হবে,রক্তশূন্যতা দূর করার হোমিও ঔষধ,যে খাবার রক্তশূন্যতা দূর করে,রক্তশূন্যতার কারণসমূহ
রক্তশূন্যতা



কলমি শাক


কলমি শাক সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং দামও খুবই কম। আমরা না কিনেও যেকোনো চাষের জমি ধানের জমি থেকে এটা সংগ্রহ করেও খেতে পারি। যদি কারো রক্ত ঘাটতি থাকে তাহলে নিচের বলা নিয়মে কলমি শাক সেবন করবেন। কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণে লোহা অর্থাৎ আয়রন রয়েছে। এছাড়া কলমি শাক ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ্‌ কোষ্ঠকাঠিন্য হাই ব্লাড প্রেসার, অভিসিটি ইত্যাদি রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। কাজেই নিঃসন্দেহে এটা সেবন করতে পারেন। 



কলমি শাক খাওয়ার নিয়ম 


যদি কেউ কলমি শাক রক্ত ঘাটতি দূর করার জন্য খেতে চান তাহলে কলমি শাক খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। ১০০ গ্রাম কলমি শাক ভালো করে ধুয়ে পানি ছাড়িয়ে এটা আপনি বেটে বা থেতো করে এর ভেতর থেকে রসটা বের করে নিন। ১০০ গ্রামে প্রায় এক কাপ বা হাফ গ্লাস মতন রস তৈরি হবে। এই রসের সঙ্গে আপনাকে মাত্র পাঁচ থেকে সাত গ্রাম আখের গুড় ভালো করে মিশিয়ে অর্থাৎ সর্বত তৈরি করে সেবন করতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করার আধা ঘন্টা পরে সেবন করুন, অথবা নাস্তা করার আগে সেবন করুন এবং বিকেল বা সন্ধ্যেবেলায় আপনি আরেকবার সেবন করুন। একটি কথা মনে রাখতে হবে যদি কেউ সকালে নাস্তার আগে সেবন করেন অবশ্যই তার আধাঘন্টা আগে পর্যাপ্ত পরিমাণে হালকা গরম পানি পান করে নেবেন। আপনি যখনই এই শাক সেবন করেন না কেন তার তিন ঘন্টার মধ্যে দুধ জাতীয় কোন খাবার একেবারে মুখে দেবেন না। এই হল কলমি শাক খাওয়ার নিয়ম।



লাল শাক 


লাল শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে । লাল শাকের আয়রন রান্না করে খেলে এটা নষ্ট হয়ে যায়। আমরা যেভাবে শাক রান্না করে খাই এতে আয়রনের মাত্রা কিছু থাকে না বললেই চলে। কাজেই আপনাকে এমন ভাবে এটি সেবন করতে হবে ঔষধের মতো করে। যাতে এর আয়রন সম্পূর্ণ বজায় থাকে। শুধু আয়রন নয় ক্যালসিয়াম সহ অন্যান্য যে কার্যকরী উপাদান গুলো রয়েছে এটা যেন সম্পূর্ণ তার ভেতরে আপনি পেয়ে যান। 



লাল শাক খাওয়ার নিয়ম 


এই লাল শাক খাওয়ার নিয়ম হল আপনি ১০০ গ্রাম লাল শাক ভালো করে ধুয়ে এটি সম্পূর্ণ ব্লেন্ড করে নিবেন। কোন অংশই ফেলবেন না। ব্লেন্ড করার পরে এই সাক আপনি শরবতের মতো করে সেবন করবেন শুধুমাত্র দিনে একবার। সকালবেলায় নাস্তা করার আধাঘন্টা আগেই আপনাকে এই লাল শাকের শরবত মাত্র ২ চামচ যে কোন প্রকার লেবুর রস এবং মাত্র হাফ চামচ পরিমাণ কালো গোল মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে সেবন করতে হবে। এইভাবে সেবন করলে তানা সাত দিনেই আপনি খুব ভালো ফল পেয়ে যাবেন। আপনি সেবন করা মাত্রই বুঝবেন যে আপনার দেহের অবসাদ ক্লান্তি বিষন্নতা এগুলো সব একে একে দূর হয়ে গেছে। আগের থেকে অনেক বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনার তৈরি হবে। রক্তস্বল্পতা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে একেবারে দুর্বল করে দেয়, তখন যে কোন রোগ বা ভাইরাসে আপনি আক্রান্ত হন। যদি আপনার রক্ত ঘাটতি থাকে এই লাল শাকের বেলাতেও ঠিক একই নিয়ম যারা সকালবেলায় লাল শাক সেবন করবেন তারা টানা তিন ঘন্টার মধ্যে কোন প্রকার একেবারেই খাবেন না। 



কুলেখাড়া বা গোকুলকাঁটা শাক


এই শাক সম্পূর্ণভাবে রক্ত তৈরীর একটি কারখানা। যাদের এনিমিয়া রয়েছে তারা চেষ্টা করবেন এই কুলেখাড়ার শাকটি খাওয়ার জন্য। আর যাদের শুধুমাত্রই রক্তস্বল্পতা এটি দীর্ঘমেয়াদি এনিমিয়া না তা আপনাকে বাইরে থেকে কখনো রক্ত দেহে দিতে হয় না তারা কলমি বা লাল শাক খেলে সম্পূর্ণ উপকার পাবে কিন্তু যাদের মাসে মাসে বা একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর বাইরে থেকে রক্ত দিতে হয় দেহে তারা অবশ্যই কুলেখাড়া শাকটি খাওয়ার চেষ্টা করবেন।



কুলেখাড়া বা গোকুলকাঁটা শাক খাওয়ার নিয়ম 


এই কুলেখাড়া শাক দুই নিয়মে খেতে পারেন। এক এটি আপনি শুধুমাত্র রস করে চিনি বা গুড়ের সঙ্গে সেবন করতে পারেন। যদি আপনার ডায়াবেটিস না থাকে অন্যথায় আপনি এটি সামান্য গোলমরিচের গুড়া এবং একটু পরিমাণ লেবুর রস দিয়ে সকাল বিকাল সেবন করুন। কুলেখাড়া শাক যেহেতু সহজে পাওয়া যায় না, যে অঞ্চলে পাওয়া যায় বা যে ঔষধি দোকানে পাওয়া যায় সেখান থেকে শুকনো অবস্থাতেও আপনি এটা কিনে আনতে পারেন। ডালপালা সহ আপনি যখন এটা সেবন করবেন তখনও উপকার পাবেন। তার জন্য আপনাকে ৭ থেকে ৮ গ্রাম শুকনো কুলেখাড়ার শাক সারারাত হাফ লিটার পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে, অবশ্যই ভেজানোর আগে খুব ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে নেবেন।

এরপরে সেটা সকাল বেলায় আপনি সিদ্ধ করতে দেবেন সিদ্ধ করার পরে এটা আড়াইশো মিলি অর্থাৎ অর্ধেক পরিমান থাকতে নামিয়ে হালকা ঠান্ডা করে দুইবার খাবেন। অর্থাৎ অর্ধেক গ্লাস খাবেন সকালে এবং বিকেল বেলায় অর্ধেক গ্লাস এভাবেও সেবন করতে পার। সবচেয়ে ভালো হয় যদি টাটকা সেবন করতে পারেন। এছাড়া কুলেখাড়া শাক খুব নরম প্রকৃতির হয়ে থাকে এই কুলেখাড়ার শাকের ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম পাতা শুধুমাত্র হালকা ঘিয়ে দুই থেকে চার মিনিট ভেজেও যদি কেউ গরম ভাবে খেতে পারেন তাহলে খুব ভালো উপকার মিলবে। তাহলে আপনি যতটা আশা করছেন তার থেকেও ভালো ফল পাবেন। 




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন